রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন স্থানে সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৯ সালের মধ্যে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয়ে অফিস কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সচিবালয় স্থানান্তর প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
কেন স্থানান্তর করা হচ্ছে সচিবালয়
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ সচিবালয় ১৭ দশমিক ৫৭ একর জমির ওপর অবস্থিত। সেখানে মোট ১৩টি ভবন রয়েছে, যার মধ্যে আটটি ভবন নির্মিত হয়েছে স্বাধীনতার আগে।
সচিবালয়ের পুরোনো ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবন ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে নির্মিত হয়। আর ৫ নম্বর ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৪৭ সালে। পুরোনো এসব ভবন ভূমিকম্প সহনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্মাণ করা হয়নি।
ঢাকা শহর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এসব ভবনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যমান ভবনগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবহারযোগ্য জায়গা না থাকায় স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। ভবনগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় ওয়াশ-ব্লকের সংখ্যাও কম। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব সুবিধা ব্যবহার করায় স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অতিরিক্ত ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি জায়গার প্রয়োজন
প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মোট অফিস স্পেসের পরিমাণ প্রায় ১৮ দশমিক ৭৬ লাখ বর্গফুট। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত জায়গার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সচিবালয় কমপাউন্ডের বাইরে থাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম একই পরিসরে আনার জন্য আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি অফিস স্পেস প্রয়োজন।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করা, পুরোনো ভবনের ঝুঁকি কমানো এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে।



