বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ১৯৯৯ সালে চিন্তা করলেন, তাঁর বাবার নামে একটি ফাউন্ডেশন করবেন। নাম হবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। সেই সময় তাঁর মূল উদ্দেশ্যই ছিল রাজনীতিকে রাজনীতির স্থানে রেখে, রাজনীতির বাইরে সাধারণ মানুষের জন্য কী করা যায়, সে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পদযাত্রা শুরু। তিনি প্রথমে খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার দিঘুলিয়ায় একটি মেডিক্যাল ক্যাম্প করেন। এই মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী পর্যায়ে তিনি চিন্তা করলেন-এ দেশের সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করতে হলে তাদেরকে আর্থিকভাবে উন্নয়ন করতে হবে।
এ সময় তিনি সারা দেশের তৃণমূলের সংগঠন গোছাচ্ছিলেন। সারা দেশে তৃণমূল সমাবেশ করতেন। সেই সমাবেশের সময় পাশাপাশি তিনি প্রত্যেকটি জেলার প্রান্তিক মানুষকে হাঁস, মুরগি, গাছের চারা, গরু, ছাগল প্রভৃতি উপকরণ দিতেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল-এর মাধ্যমে ওই ব্যক্তির আর্থিকভাবে উন্নতি সাধন হবে, সামাজিকভাবে সচ্ছল হবে এবং এর মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক চাকা সচল হবে। এই প্রকল্প যে খুব একটা বড় ছিল তা কিন্তু নয়। তাঁর এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ছিল মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা। তাঁর এই কর্মকাণ্ড দেখে দেখে অন্যরাও যাতে একই ধরনের কাজ করতে পারে এবং বাস্তবে তাই-ই দেখা গেছে। তিনি যখন থেকে হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল-এগুলো দেওয়া শুরু করলেন তখন অন্যান্য জায়গায় যেখানে আমাদের জেডআরএফ নেই, সেখানে মানুষ একই কায়দায় প্রান্তিক মানুষকে দান করতেন। এইভাবে তাঁর কর্মকাণ্ড চলতে থাকে। এই ফাউন্ডেশনের প্রথম যে কমিটি হয়েছিল, সেখানে তিনিই একমাত্র নন- ডাক্তার; বাকি ২১ জন ডাক্তার নিয়ে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। এই যাত্রা বিরামহীন চলতে থাকে।
অসচ্ছল মেধাবীদের পাশে
তারেক রহমানের নির্দেশে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে ২০০৫ সালে চালু হয় বৃত্তি প্রদান প্রকল্প। আর্থিকভাবে অসচ্ছল অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ধরে রাখতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা করা হয়। ২০০৫ সালে ঢাকার এলজিইডি ভবনে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৃত্তি প্রদান শুরু করা হয়। পরবর্তীকালে রাজনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে কিছুদিন কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও পরবর্তীতে এটি আরো বিস্তৃত পরিবারের মধ্যে চালু করা হয়। ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট জনাব তারেক রহমান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের দিক-নির্দেশনায় পুনরায় ২০২৩ সালে সারা দেশের মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের ১৯ জন সন্তানকে শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান করা হয়।
অসহায় মানুষের স্বাস্থ্য সেবায়
দেশের যে কোনো দুর্যোগ সঙ্কটকালে ও জরুরি অবস্থায় জেডআরআফ নিয়মিত ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন করে থাকে। এসব ক্যাম্পে রোগীদের সুচিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রদান করা হয়। স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হয়। খুলনার রূপসা, ঢাকার যাত্রাবাড়ী. করাইল বস্তি, গাজীপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় সমপ্রতি এসব সেবা প্রদান করা হয়। বিশেষ করে যারা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের কাছে এই ক্যাম্পগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফাউন্ডেশন-এর প্রেসিডেন্ট জনাব তারেক রহমান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের পরামর্শে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়ায় নিজ বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প করা হয়। গত বছর ১৮ অক্টোবর ফাউন্ডেশন-এর ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেই স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পে প্রায় ৭ হাজার রোগী সেবাগ্রহণ করেন। ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক এবং সদস্যরা সুবিশাল স্বাস্থ্য শিবিরের কাজ, অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেন। শীতের কারণে ঠাণ্ডাসহ চোখে আক্রান্ত মানুষকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ঢাকার কাকরাইল বস্তিতে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। সিলেটে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন করে সেবা প্রদান করা হয় কয়েক হাজার রোগীকে।
স্বাভাবিক জীবনে ঠোঁটকাটা রোগী
জননেতা তারেক রহমানের আগ্রহে একটি বিশেষ উদ্যোগ হিসাবে জেডআরএফ জার্মান বিশেষজ্ঞ সার্জনদের সহযোগিতায় বগুড়া, খুলনা এবং গাইবন্ধায় প্লাস্টিক ও রিকন্সট্রাকটিভ সার্জারি ক্যাম্প আয়োজন করে। এই ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ৪৫০ জন ঠোঁটকাটা, তালুকাটা ও পোড়া রোগীকে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করা হয়। আর্থিক অভাব বা চিকিৎসা সুবিধার অভাবে সার্জারি করতে না পারলেও এসব ক্যাম্পের মাধ্যমে অনেকেই নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। এখনও বিভিন্ন জেলায় এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
অ্যাজমা রোগীদের সেবায়
বাংলাদেশের প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত। এটি ২০০৩ সালের সরকারি হিসাবের ধারণা। একটি মাত্র সমন্বিত অ্যাজমা সেন্টারে এমন রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত সেবা পাওয়া কঠিন৷ এই প্রয়োজন অনুভব করে মানবিক তারেক রহমানের দিক-নির্দেশনায় ২০০৩ সালে বগুড়া এবং ২০০৪ সালের চট্টগ্রামে অ্যাজমা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে। বগুড়ায় প্রায় ৫ হাজার ৮৭১ জন এবং চট্টগ্রামে ৩ হাজার ১১৯ জন রোগী সফল চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। বর্তমানে এই সেবা চলমান রয়েছে।
কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপন
মানবতার সেবক তারেক রহমানের দিক-নির্দেশনা ও তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বা দুর্ঘটনার কারণে যারা হাত, পা হারিয়েছেন তাদের জন্য জেডআরএফ কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এ সহযোগিতা চলছে এবং বহু মানুষ এর মাধ্যমে নতুন করে চলাফেরা ও কর্মজীবনে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি জেডআরএফ শহীদ পরিবার, নিখোঁজ বা নির্যাতিত পরিবারের পাশে থেকেছে এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।
বিশুদ্ধ কমল পানি সরবরাহ
ঢাকার দাসের কান্দি এলাকার মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। সেখানে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে পানি দূষণ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছায়। তারেক রহমানের নির্দেশে এই সমস্যার সমাধানে জেডআরএফ বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সহযোগিতায় কমল (শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ডাক নাম কমল সেই হিসাবে এই পানির নাম রাখা হয়েছে) পানি প্রকল্পটি চালু করে। প্রায় ১২০টি পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাচ্ছে। পাশাপাশি এখানে আরও ১৬০টি পরিবার ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করছে। এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রেখে চলেছে।
করোনাকালে সেবা
মহামারী করোনাকালে মানুষ যখন জীবনের ভয়ে গৃহবন্দী তখন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক, কৃষিবিদসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিয়েছেন অক্সিজেন সিলিন্ডার, প্রাইভেট মেডিকেল পিপিই, ওষুধসামগ্রী। আবার যারা অনেকটাই গৃহবন্দী তাদের জন্য চালু করা হয় হটলাইন স্বাস্থ্যসেবা।
দুর্যোগ দুর্বিপাকে জেডআরএফ
তারেক রহমানের নির্দেশে ২০২৪ সালে ফেনীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা, জুলাই আন্দোলনের সময় আহতদের চিকিৎসাসেবা, মাইলস্টোন ট্রাজিটিতে দক্ষ ছাত্র শিক্ষকদের সহায়তা, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ, ডেঙ্গু ও অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, হৃদরোগ প্রতিরোধক প্রচারণা, মাদরাসা ও এতিমখানায় ঈদ উপহার ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান-এ সবের মধ্যে কিছু সাম্প্রতিক কার্যক্রম এখন তুলে ধরা হচ্ছে।
ভিটেরিনারি মেডিক্যাল ক্যাম্প
তারেক রহমানের দিক-নির্দেশনায় দেশব্যাপী ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন করেছে ফাউন্ডেশন। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ আগস্ট ২০২৫ জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ময়মনসিংহ জেলার সুতিয়াখালী গ্রামের জহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। ক্যাম্পে গ্রামের কৃষকের গবাদি পশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করা হয়। চট্টগ্রাম বাঁশখালীতে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফি ভেটেরিনারি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ১৫ নভেম্বর ২০২৫। এছাড়াও ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অনুরূপ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কৃষকদের মাঝে এডাব্লিউডি কিট বিতরণ করা হয়।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি
যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা এবং পলিথিন ফেলে রাখার কারণে আমাদের স্বাস্থ্যহানি ঘটে এ বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। এইসব ময়লা- আবর্জনা গদ্দালি পশুর পেটে চলে যাওয়ার ফলে তাদের মধ্যে নানা ধরনের ক্ষতিকারক জীবাণুর অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে এবং সেই মাংস মানব স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এজন্য তার নির্দেশে ফেনী, খুলনাসহ আরো বেশ কয়েক জায়গায় পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়।
আইডিয়া ফেস্ট ২০২৫ মিনি হ্যাকাথন বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অভিপ্রায় তারুণ্যের ভাবনায় আগামীর বাংলাদেশ’ শিরোনামে আইডিয়া ফেস্ট ২০২৫ মিনি হ্যাকাথন’ তোমাদের ক্যাম্পে ক্যাম্পাসে শীর্ষক কর্মসূচি গ্রহণ করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশ নানা সমস্যায় জর্জরিত। এসব সঙ্কট মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে তরুণদের। ফলে তাদের দক্ষ ও যোগ্য হিসাবে গড়ে তুলতেই ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ অর্থাৎ তরুণরা যেন দেশের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের পথ নির্মাণ করতে পারে। এই আইডিয়া ফেস্ট’র মূল লক্ষ্যই সেটি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমানের নির্দেশে এই ট্যালেন্ট হান্ট বা মিনি হ্যাকাথনের আয়োজন করা হয়। পরবর্তীকালে এই সকল তরুণদের নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্যোগে যুক্ত জেডআরএফ দেশের সীমানা পেরিয়ে জেডআরএফ আন্তর্জাতিকভাবে মানবিক উদ্যোগেও যুক্ত হয়েছে। তুরস্কের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় জেডআরএফের সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি টিম ঢাকাস্থ তুরস্ক দূতাবাসে কাল হন্তান্তর করে।
পরিশেষে বলা যায়, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭ বছরের যাত্রা মূলত মানব কল্যাণ, সহমর্মিতা, উন্নয়ন ও সেবার ইতিহাস। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ পরিস্থিতি এবং মানবিকতার প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফাউন্ডেশন বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছে। মানবতার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ এই সংগঠন ভবিষ্যতেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাবে। আরও বড় পরিসরে চলতে থাকবে আর্তমানবতার সেবা। মানবতাবাদী গুণে গুণান্বিত একজন তারেক রহমান যখন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তখন অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই এর কর্মকাণ্ড বিস্তার লাভ করবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ শহরের সকল জনসাধারণের জন্য ক্রমেই এই ফাউন্ডেশন তার কার্যক্রম বাড়িয়ে চলবে। বিভিন্ন পেশার প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বের সমন্বয় গঠিত একটি চৌকস টিমের মানব সেবার তীব্র আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে জনবান্ধব এই সকল কর্মসূচি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও চলবে। আজ এই শুভদিনে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নিবেদন- তিনি যেন আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রেসিডেন্ট জনাব তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য অক্ষুণ্ন রাখেন। আমরা জেডআরএফ-এর সকল সদস্য তারেক রহমানের মানবতাবাদী এই প্রতিষ্ঠানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। তারেক রহমানের মানবতার দর্শনকে দেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে আমরা নিয়োজিত রয়েছি।
লেখক: পরিচালক, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন
২৭ বছরের অর্জন : আগামী দিনের দায়িত্ব আমাদের অঙ্গীকার
অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজীজ সুমন
প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পূর্ণ করল জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)—একটি অরাজনৈতিক, জনকল্যাণমূলক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান। এর প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় জেডআরএফ বিশ্বাস করে, মানুষের সেবা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি মানবিক দায়িত্ব। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই এর সবচেয়ে বড় পরিচয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে জেডআরএফ দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, পুনর্বাসন ও সামাজিক উন্নয়নে নিরলস-ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অ্যাজমা সেন্টার, বগুড়ার শিশুস্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে হাঁস-মুরগি ও ছাগল বিতরণ, এবং তীব্র পানিসংকটে থাকা দাশেরকান্দিতে সুপেয় পানির ট্যাংক স্থাপন—এসব উদ্যোগ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও জীবনমান উন্নয়নে ফাউন্ডেশনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
দেশজুড়ে শত শত স্বাস্থ্যশিবির, ছানি রোগীদের জন্য চক্ষুশিবির, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও সহায়তা, পশুসম্পদ রক্ষায় ভেটেরিনারি ক্যাম্প এবং বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বড় দুর্ঘটনায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—জেডআরএফের কার্যক্রমের বিস্তৃতি প্রমাণ করে। কোভিড-১৯ মহামারির শুরুতেই চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করে সহায়তামূলক কার্যক্রম গ্রহণও ছিল এর উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর একটি।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নে অঙ্গহানি ও গুরুতর শারীরিক ক্ষতির শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও সহায়তায় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ মানবিক দায়বদ্ধতার এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। জুলাইয়ের শহীদ পরিবারগুলোর কাছে ঈদ উপহার পৌঁছে দিতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সরাসরি পৌঁছানোর প্রচেষ্টা প্রমাণ করে—মানবতার সেবা দুরত্ব বা অবস্থানের সীমা মানে না।
শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে বহু মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছে জেডআরএফ। তাদের অনেকে আজ চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও সেনা কর্মকর্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। এই সাফল্য শুধু ব্যক্তির নয়; এটি একটি মানবিক উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগের প্রতিফলন।
তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল চিন্তার সঙ্গে যুক্ত করতেও জেডআরএফের উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে আয়োজিত বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এসব মেলায় বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শন, উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন, প্রশ্নোত্তর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা, দলগত কাজ ও নেতৃত্বের গুণ বিকশিত হচ্ছে। বিজ্ঞান মেলা কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুক্তিবাদী, প্রযুক্তিসচেতন ও দেশগঠনে সক্রিয় নাগরিক হিসাবে প্রস্তুত করার একটি কার্যকর প্লাটফর্ম।
এই উদ্যোগে তারেক রহমানের প্রতিকৃতি যেন মানবিক নেতৃত্বের একটি প্রতীকী চিত্র হয়ে ওঠে—যেখানে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, তরুণদের প্রতি আস্থা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয় একসূত্রে মিলিত। তাঁর নেতৃত্বের ভাবনায় জেডআরএফের মানবিক কার্যক্রম যেমন মানুষের দুঃসময়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়, তেমনি বিজ্ঞান মেলার মতো উদ্যোগ তরুণদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের শক্তি জোগায়।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে জেডআরএফ মানুষের জন্য কাজ করার পরিসর আরও বিস্তৃতি করতে চায়। স্বাস্থ্যসচেতনতা, পরিবেশ ও নিরাপদ পানি, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য, অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, বিজ্ঞানশিক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের বিজ্ঞানমনস্কতা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মানুষের জন্য, মানবতার জন্য এবং জ্ঞানভিত্তিক ভবিষ্যতের জন্য—জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের এই পথচলা অব্যাহত থাকুক। জেডআরএফের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকল শুভানুধ্যায়ী, স্বেচ্ছাসেবক, চিকিত্সক, দাতা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহযোগীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।
লেখক: পরিচালক, বাংলাদেশ ক্যান্সার হাসপাতাল
আহ্বায়কের শুভেচ্ছা
আজ ১৮ অক্টোবর, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। হাঁটি হাঁটি পা পা করে দীর্ঘ ২৭ বছরের পথ পরিক্রমায় ফাউন্ডেশন সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আজকের এই শুভক্ষণে ফাউন্ডেশনের সব পর্যায়ের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন মানবসেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসক, কৃষিবিদ, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে সমৃদ্ধ করেছে।
আমি বিশ্বাস করি, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা আরও সুসংগঠিতভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারব। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফাউন্ডেশনের অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল ও অর্থবহ হোক—এই প্রত্যাশা করি।
সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।
অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান
আহবায়ক
২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন কমিটি
সদস্য সচিবের শুভেচ্ছা
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফাউন্ডেশনের সকল সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও সেবাকর্মে সম্পৃক্ত সবার প্রতি জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ ও মানবকল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা, চিকিৎসাসেবা, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বৃক্ষরোপণ এবং তরুণদের সৃজনশীলতা বিকাশে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ফাউন্ডেশনের এই মানবিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে আরও গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফাউন্ডেশনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।
অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম
সদস্য সচিব
২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন কমিটি



