tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকইরান চুক্তি নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেক ইসরায়েলি, ট্রাম্পের সমালোচনায় সরব

ইরান চুক্তি নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেক ইসরায়েলি, ট্রাম্পের সমালোচনায় সরব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তিকে ঘিরে ইসরায়েলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশটির অনেক নাগরিক এ চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, চুক্তিতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের রেহোভোত শহরের বহু বাসিন্দা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হলেও মূল সংকটের সমাধান হয়নি। বরং ভবিষ্যতে তেহরান আরও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে আসতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

স্থানীয় বাসিন্দা আভি পেরেজ বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।” আরেক বাসিন্দা শাহাম নোভিকের ভাষায়, “একদিন আমরা সন্তানদের নিয়ে বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলাম, পরের দিন বলা হচ্ছে সবকিছু স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবে কোনো সমস্যারই সমাধান হয়নি।”

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অনেক ইসরায়েলির আশঙ্কা, এই চুক্তির ফলে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমের ওপর নতুন সীমাবদ্ধতা আসতে পারে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে তারা এখনো বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

এদিকে চুক্তিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপের মুখেও রয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সমালোচকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রভাব কমানোর যে লক্ষ্য তিনি সামনে রেখেছিলেন, তার উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো অর্জিত হয়নি।

তবে নেতানিয়াহুর প্রতি জনসমর্থন পুরোপুরি কমে যায়নি। অনেক ইসরায়েলি মনে করেন, নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় তিনিই সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও কার্যকর নেতা। সাম্প্রতিক জরিপগুলোও ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরান ইস্যুর মতো জটিল বিষয়ে এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নাগরিক তার নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখছেন।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইসরায়েলি সমাজে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন অনেক নাগরিক। তাদের মতে, নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচও এখন বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রেহোভোতের বাসিন্দা দালিয়া পেরেজ বলেন, “একসময় আমি শান্তির স্বপ্ন দেখতাম। এখন মনে হয়, আমাদের সব সময় যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়েই বাঁচতে হবে। আমরা শিখেছি, কাউকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না।”

বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি, লেবানন পরিস্থিতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু আগামী জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক ও মেরুকরণ আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।