২০১৫ সালে বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করে র্যাবের টিএফআই (টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন) সেলে আটকে রাখার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ র্যাব ও পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
শনিবার (৮ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, তদন্ত দ্রুত শেষ করে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে, তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদকে শেখ হাসিনার নির্দেশনাতেই গুম করা হয়েছিল। গুমের পর তাঁকে ভারতে পাচারের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের নিয়েও তদন্ত চলছে।
তিনি আরও জানান, তদন্ত কর্মকর্তা বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মৌখিক জবানবন্দি নিয়েছেন। শিগগির তাঁর আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি নেওয়া হবে।
এদিকে গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা ও আইনজীবী সোহেলের দেওয়া জবানবন্দিতেও সালাহউদ্দিন আহমদকে টিএফআই সেলে আটকে রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তদন্ত সংস্থা বলছে, সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম, টিএফআই সেলে আটকে রাখা এবং পরে ভারতে পাচারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস পর একই বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং থেকে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে ফিরে গুমের ঘটনায় বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।



