ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে বিপুল ভোটে পাস হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বিল—‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। শুক্রবার (৭ আগস্ট) মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি অনুমোদন পায়।
ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল ছিলেন বিলটির অন্যতম উদ্যোক্তা। গ্রাহামের মৃত্যুর পরও দুই দলের নেতারা বিলটি পাসের উদ্যোগ অব্যাহত রাখেন।
বিলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো—রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় আমদানিকারক দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়া। বর্তমানে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বিলটিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, শীর্ষ কর্মকর্তা, ধনকুবের ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৯৯৬ সালের ইরান নিষেধাজ্ঞা আইনের মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। ওই আইনের আওতায় ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ রয়েছে।
বিলটির পক্ষে ভোট দেওয়ার পর সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, লিন্ডসে গ্রাহাম বেঁচে থাকলে এই পদক্ষেপে গর্বিত হতেন। তার ভাষায়, কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ওপর চাপ বাড়াবে এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল করতে সহায়তা করবে।
অন্যদিকে, কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর বিলটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নতুন শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে শুল্ককে তার বাণিজ্যনীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য গ্রেগরি মিকস ও ডন বেয়ারও বিলটির সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, ইউক্রেনকে সমর্থন এবং রাশিয়াকে জবাবদিহির আওতায় আনার লক্ষ্যকে তারা সমর্থন করেন। তবে বিলটি প্রেসিডেন্টকে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ দেবে, যার অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকদের ওপর পড়তে পারে।
সিনেটে পাস হওয়ার পর বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। আগামী ৩১ আগস্ট প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন শুরু হলে সেখানে বিলটি উত্থাপনের কথা রয়েছে। উভয় কক্ষে অনুমোদন পাওয়ার পর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হবে।



