tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকমার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর ঘিরে ভারতে বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে কূটনৈতিক মর্যাদা

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর ঘিরে ভারতে বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে কূটনৈতিক মর্যাদা

  1. মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফর ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে বিতর্ক। গত ছয় মাসের মধ্যে এটি তার দ্বিতীয় ভারত সফর। তবে এবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে না গিয়ে মুম্বাইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এরপর গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের একটি বড় তেল শোধনাগার পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করাই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। তবে সফরের কর্মসূচির চেয়েও বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে বৈঠকের স্থান নির্ধারণ এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো নিয়ে।

    বিতর্কের সূত্রপাত দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের একটি মন্তব্য থেকে। তিনি জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি সামনে আসার পর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় সমালোচনা।

    কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এ ঘটনাকে কটাক্ষ করে বলেন, মার্কো রুবিও যেন মুম্বাইয়ে নিজের কোনো কর্মীকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্য বিরোধী নেতারাও এ ঘটনাকে ভারতের কূটনৈতিক মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, নিজ দেশে একজন বিদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের জন্য ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অন্য শহরে যেতে বলার বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

    ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বাড়ছে টানাপোড়েন

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য শুল্ক এবং রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে এই সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

    ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি ও বিনিয়োগের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে দুই দেশের মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে রুবিওর সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

    কেন এত বিতর্ক?

    সফরের মূল উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা হলেও, বৈঠকের স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে ভারতের বিরোধী দলগুলো সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভারতের মর্যাদা ও সমমর্যাদাভিত্তিক কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

    তবে বৈঠক মুম্বাইয়ে আয়োজনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই দুই দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানিসংক্রান্ত আলোচনার দিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

    সূত্র: আল-জাজিরা