তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম মাস পার করেছে। এরই মধ্যে নির্বাচনী অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রথম দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রী ব্যতিক্রমী কার্যক্রম শুরু করেছেন—দিন-রাত একাকার করে তিনি কাজ করছেন, ছুটির দিনও অফিসে উপস্থিত থাকছেন। সরকারি দপ্তরগুলোকে দ্রুত ও কার্যকর করার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় তদারকি করছেন তিনি।
সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারের ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে সরকার নজর দিচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছেন, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী প্রদান শুরু করেছেন এবং দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। নতুন সরকার গঠনের ১০ দিনে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। পহেলা বৈশাখে কৃষকদের জন্য ফার্মাস কার্ড বিতরণও শুরু হবে।
অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ মানবজমিনকে বলেছেন, “প্রথম মাসেই জরুরি কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে—ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী, প্রশাসনিক সংস্কার ও নতুন নিয়োগ।”
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, “এই সরকারে সম্পূর্ণ জবাবদিহিতা ও পূর্ণাঙ্গ বাকস্বাধীনতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরাসরি সম্পৃক্ত, মন্ত্রণালয় ও সচিবালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিক মিটিংয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। জনগণের প্রত্যাশা ইতিমধ্যেই বহুলাংশে পূরণ হয়েছে।”
ড. মাহদী আমিন উল্লেখ করেছেন, ২৮ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপগুলো শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার স্পষ্ট প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া প্রধান উদ্যোগগুলো হলো:
সামাজিক সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা
- ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, মাসিক ২,৫০০ টাকা সহায়তা।
- ৪,৯০৮ মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০ মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪ বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও ৩৯৬ গির্জার যাজক-পাতকরা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন।
- দরিদ্রদের জন্য ঈদে ত্রাণ ও উপহার বিতরণ।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি
- ২১,৫০০ কৃষকের মধ্যে ফার্মাস কার্ড বিতরণ।
- কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ।
- দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু।
প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসন
- সপ্তাহিক ছুটির দিনও প্রধানমন্ত্রী অফিস করছেন।
- কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
- ট্রাফিক ব্যবস্থায় নজিরবিহীন পরিবর্তন, ভিআইপি প্রটোকল হ্রাস।
- এমপিদের বিশেষ সুবিধা বাতিল, সরকারি প্লট ও শুল্কমুক্ত গাড়ি গ্রহণ বন্ধ।
অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতা
- রমজান ও ঈদে মূল্যবৃদ্ধি রোধ।
- বিদেশি বিনিয়োগে সহজীকরণ, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস সময়মতো প্রদান।
- বন্ধ সরকারি কারখানা পুনরায় চালু ও স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পদক্ষেপ।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
- পুনঃভর্তি ফি ও লটারি ভর্তি ব্যবস্থা।
- ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ।
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত, ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ।
- বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা সহায়তা।
স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ
- ই-হেলথ কার্ড চালু।
- ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ (৮০% নারী)।
- সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা
- চাঁদাবাজি ও অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ।
- নারী পরিচালিত পিংক বাস চালু।
রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ
- রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিতকরণ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়।
- সরকারি অফিসে অর্ধেক ফ্যান ও এসি ব্যবহারে সাশ্রয়।
- অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ ও সমন্বিত উদ্যোগ।
- শাহ্জালাল বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল চালু, ট্রেনে ফ্রি ইন্টারনেট।
ড. মাহদী আমিন বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড ও ধর্মীয় সম্মানী কর্মসূচি সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন আনছে। এই সফলতা বজায় থাকলে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন মানদণ্ড স্থাপন সম্ভব হবে।”



