tanaka
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলবিনোদনপূজায় ছোটবেলার স্মৃতি রোমন্থন করলেন কাঞ্চন-শ্রীময়ী

পূজায় ছোটবেলার স্মৃতি রোমন্থন করলেন কাঞ্চন-শ্রীময়ী

ঢাকের বাদ্যি আর উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে কলকাতা। দুর্গাপূজাকে ঘিরে বাঙালির আনন্দের যেন শেষ নেই। নতুন পোশাক, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখা, জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে উৎসবের দিনগুলো হয়ে ওঠে বিশেষ। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তারকারাও মেতে ওঠেন পূজার আনন্দে।

টালিউডের তারকা দম্পতি কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ী চট্টরাজের কাছেও দুর্গাপূজা মানেই আনন্দ, পরিবার আর শৈশবের স্মৃতিতে ফিরে যাওয়া। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও দুই সন্তানকে নিয়ে এবারের পূজার পরিকল্পনা ও ছোটবেলার নানা অভিজ্ঞতার কথা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তারা।

এবারের পূজা কাঞ্চন-শ্রীময়ীর কাছে বিশেষ আনন্দের। গত বছর মেয়েকে নিয়ে পূজা উদ্‌যাপন করলেও এবার পরিবারে এসেছে নতুন সদস্য। তবে দুই মাস বয়সী ছেলে গদাইকে নিয়ে আপাতত বাইরে বের হওয়ার পরিকল্পনা নেই তাদের।

ছেলেকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার প্রসঙ্গে দম্পতি বলেন, ‘গদাইয়ের বয়স দুই মাস। ওকে নিয়ে বেরোনো যাবে না।’

কাঞ্চন জানান, তাদের মেয়ে ঠাকুর দেখতে খুব ভালোবাসে। গত বছর তাকে কাঁধে নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ঘুরেছেন তিনি। এবারও মেয়েকে নিয়ে অন্তত এক দিন ঠাকুর দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে শ্রীময়ীর।

অভিনেত্রী জানান, তার গ্রামের বাড়িতে পারিবারিকভাবে দুর্গাপূজা হয়। সেখানে পরিবারের সদস্যরা মুখে কাপড় বেঁধে ভোগ রান্না করেন। আয়োজন করা হয় মিউজিক্যাল চেয়ার খেলার। সিঁদুরখেলা থেকে শুরু করে বিসর্জনের সময় নাচ—সব মিলিয়ে উৎসবের দিনগুলো আনন্দে কাটে।

কাঞ্চনের পূজার স্মৃতিতে নতুন পোশাক ও মোগলাই পরোটা

ছোটবেলার পূজার স্মৃতি মনে করে কাঞ্চন বলেন, তখন পূজার আগে মামা-কাকারা কে কী পোশাক দেবেন, তা নিয়ে অপেক্ষায় থাকতেন তিনি। কয়টি নতুন জামা হলো, সেটিও ছিল আগ্রহের বিষয়। মায়ের হাত ধরে এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানোর স্মৃতিও আজও তার মনে উজ্জ্বল।

পূজার মেলার খাবারের কথাও ভুলতে পারেননি অভিনেতা। মেলায় গিয়ে মোগলাই পরোটা আর কষা মাংস খাওয়াই ছিল তার আনন্দের অন্যতম অংশ।

পরবর্তী সময়ে নিজেই যখন পাড়ার পূজার সঙ্গে যুক্ত হন, তখন আনন্দের ধরন বদলে যায়। গলায় ক্লাবের নাম লেখা পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ভিড় সামলানোর মধ্যেও আলাদা আনন্দ খুঁজে পেতেন তিনি।

পূজায় প্রেমের স্মৃতি নিয়ে মজার উত্তর কাঞ্চনের

পূজার সময় কখনো প্রেমে পড়েছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রসিকতা করে কাঞ্চন বলেন, ‘কেউ আমার প্রেমে পড়েনি কোনো দিন, কেউ না। কেউ না মানে কেউ-ই না।’

দশমীর দিনের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ওই দিন প্রণাম করা ও কোলাকুলির মুহূর্তগুলো ছিল বিশেষ আনন্দের। তবে এখন দশমী শ্রীময়ীর কাছেও বিশেষ দিন হয়ে উঠেছে। সিঁদুরখেলায় মেতে উঠলে তার আর কথা বলার সময় থাকে না বলেও মজা করেন কাঞ্চন।

শৈশবে বন্ধুদের প্রেমপত্র বিলাতেন শ্রীময়ী

শ্রীময়ীর ছোটবেলার পূজা কাটত কিছুটা নিয়মের মধ্যে। রাত জেগে ঠাকুর দেখার সুযোগ খুব একটা পেতেন না তিনি। বাবার সঙ্গে এক দিন সারা রাত ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ হতো।

নিজের শৈশবের মজার অভিজ্ঞতা জানিয়ে শ্রীময়ী বলেন, বন্ধুদের হয়ে প্রেমপত্র বিলি করতেন তিনি। তার ভাষায়, ‘চতুর্থীতে প্রেম হতো, আর দশমীতে কেটে যেত।’

উত্তর কলকাতায় বেড়ে ওঠা শ্রীময়ী জানান, পরিচিত কেউ দেখে ফেলতে পারেন—এই আশঙ্কায় নিজে প্রেম করার ঝুঁকি নিতেন না। তবে মেলায় গিয়ে নাগরদোলায় চড়তে খুব ভালো লাগত তার।

এ কথা শুনে কাঞ্চন নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, তার কাছে নাগরদোলা মানেই আতঙ্ক। একবার ভয়ে এক কাকিমাকে শক্ত করে ধরে ফেলেছিলেন তিনি। অল্পের জন্য চড় খাওয়া থেকে বেঁচে যান বলেও হাস্যরসের সঙ্গে জানান অভিনেতা।

শ্রীময়ীর প্রিয় দশমী, পছন্দ সিঁদুরখেলা

শ্রীময়ীর কাছে দুর্গাপূজার সবচেয়ে প্রিয় দিন দশমী। কারণ, সিঁদুরখেলা তার ভীষণ পছন্দের। বিয়ের পর এই ভালোবাসা আরও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

অভিনেত্রীর কথায়, আগে মূলত ছবি তোলার জন্য সিঁদুরখেলায় অংশ নিতেন। এখন শাঁখা-পলা ও সিঁদুরকে নারীর অন্যতম সুন্দর অলংকার বলে মনে করেন তিনি।

আগে কাঞ্চন তার সৌন্দর্যের প্রশংসা করতেন, আর এখন মেয়ের কাছ থেকেই বেশি প্রশংসা পান বলে মজার ছলে জানান শ্রীময়ী।

পূজা মানেই শ্রীময়ীর ‘নো ডায়েট’

খাবারদাবার ছাড়া পূজার আনন্দ যেন অসম্পূর্ণ। শ্রীময়ীর কাছেও পূজা মানেই খাওয়াদাওয়ায় কোনো বিধিনিষেধ না রাখা।

তিনি জানান, চতুর্থী থেকেই রেস্তোরাঁয় খাওয়ার পরিকল্পনা থাকে। পোলাও ও মাটন থাকে পছন্দের তালিকায়। তবে অষ্টমীর দিন নিরামিষ খাবার খাওয়ার নিয়মও মেনে চলেন তারা। সেদিন খিচুড়ির ভোগের সঙ্গে লাবড়া থাকতেই হবে।

দশমী এলেই মন খারাপ কাঞ্চনের

পূজার আনন্দের পাশাপাশি উৎসব শেষ হওয়ার বিষণ্নতাও রয়েছে কাঞ্চনের মনে। তার কাছে দশমী মানেই মন খারাপের দিন।

অভিনেতা বলেন, সারা বছর পূজার জন্য অপেক্ষা করেন তিনি। উৎসব শেষ হওয়ার পর থেকেই পরের বছরের পূজার দিন গোনা শুরু হয়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।

কাঞ্চন-শ্রীময়ীর কথায় উঠে এসেছে, সময়ের সঙ্গে পূজা উদ্‌যাপনের ধরন বদলালেও শৈশবের স্মৃতি, পারিবারিক বন্ধন, প্রিয় খাবার আর উৎসবের আনন্দ আজও একই রকম ভালো লাগার জায়গা হয়ে রয়েছে।