লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এতে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আসন্ন নির্বাচন এবং দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটির প্রথম পর্ব সোমবার প্রকাশ করে বিবিসি বাংলা।
নিচে সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো তুলে ধরা হলো:
বিবিসি বাংলা: আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। কেমন আছেন আপনি?
তারেক রহমান: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। সময়টা ব্যস্ততার মধ্যেই যাচ্ছে। যদিও আমি শারীরিকভাবে দেশের বাইরে, তবে গত ১৭ বছর ধরে মন ও মননে আমি বাংলাদেশের সঙ্গেই রয়েছি।
বিবিসি বাংলা: এমন সময় আমরা কথা বলছি, যখন বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পর আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় নিয়েছে। এর মধ্যে আপনি বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছেন, কথা বলেছেন। তবে গণমাধ্যমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কথা বলেননি। কেন?
তারেক রহমান: আসলে আমি কথা বলেছি—নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ এবং সামাজিক মাধ্যমে। তবে মিডিয়ায় সরাসরি বলার সুযোগ ছিল না। কারণ, স্বৈরাচারী সরকারের সময় আমার কথা বলার অধিকার আদালতের মাধ্যমে রুদ্ধ করা হয়েছিল। গণমাধ্যম চাইলেও অনেক সময় আমার কথা প্রকাশ করতে পারত না। এমনকি প্রেস ক্লাবে একবার বক্তব্য দেওয়ার পর, আমাকে ‘আইনের চোখে ফেরারি’ উল্লেখ করে ভবিষ্যতে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। আমি থেমে থাকিনি, সবসময় চেষ্টা করেছি মানুষের কাছে পৌঁছাতে।
দেশে ফেরা নিয়ে ভাবনা
বিবিসি বাংলা: অনেকের ধারণা ছিল, সরকার পতনের পর আপনি দেশে ফিরবেন। এখনো ফেরেননি কেন?
তারেক রহমান: কিছু বাস্তব কারণেই ফেরাটা সম্ভব হয়নি এখনো। তবে সময় এসে গেছে বলেই মনে হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই দেশে ফিরব।
বিবিসি বাংলা: কবে নাগাদ ফিরবেন?
তারেক রহমান: খুব শিগগিরই, ইনশাআল্লাহ।
বিবিসি বাংলা: তাহলে নির্বাচনের আগেই দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে?
তারেক রহমান: আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। নির্বাচন এবং রাজনীতি একে অপরের সঙ্গে জড়িত। যদি এটা হয় একটি গণতান্ত্রিক, সুষ্ঠু ও প্রত্যাশিত নির্বাচন, তাহলে নিশ্চয়ই আমি জনগণের মাঝেই থাকব ইনশাআল্লাহ।
বিবিসি বাংলা: আপনার না ফেরার পেছনে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কথা দলের কিছু নেতারা বলেছেন। আপনি কি তেমন কিছু অনুভব করেছেন?
তারেক রহমান: বিভিন্ন মহল থেকেই নানা রকম শঙ্কার কথা শুনেছি। এমনকি সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও এসব শঙ্কা মাঝেমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে।



