tanaka

চুরির ঝুঁকিতে কক্সবাজার বিমানবন্দর, আইকাও অডিটের আগে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

চুরির ঝুঁকিতে কক্সবাজার বিমানবন্দর, আইকাও অডিটের আগে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগচুরির ঝুঁকিতে কক্সবাজার বিমানবন্দর, আইকাও অডিটের আগে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকগ্রিনল্যান্ডে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ঘোষণা ট্রাম্পের

গ্রিনল্যান্ডে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ঘোষণা ট্রাম্পের

উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের বরফে ঢাকা দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে তেল, গ্যাস ও মূল্যবান খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভূগর্ভে বিপুল পরিমাণ তেল রয়েছে এবং সেখান থেকে তা উত্তোলন করা সম্ভব।

ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দ্বীপটির প্রাকৃতিক সম্পদ, কৌশলগত গুরুত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে গ্রিনল্যান্ডে ব্যাপক পরিসরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান শুরুর বিষয়ে তাঁর ঘোষণার বিস্তারিত এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

নিরাপত্তা চুক্তি ঘিরে নতুন আলোচনা

গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যবর্তী আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ, সামরিক নজরদারি এবং আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে দ্বীপটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তির বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। চুক্তিটির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো, নতুন সামরিক স্থাপনা নির্মাণ এবং ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, সম্ভাব্য আকাশপথের হামলা শনাক্ত ও প্রতিহত করার ক্ষেত্রে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

গ্রিনল্যান্ডের সম্পদ নিয়ে আগ্রহ

তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডে বিরল মৃত্তিকা মৌলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক আগ্রহ রয়েছে। এসব সম্পদ জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি উৎপাদন এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে ভূগর্ভে সম্পদের সম্ভাব্য মজুত থাকলেই সেগুলো সহজে উত্তোলন করা যায় না। গ্রিনল্যান্ডের কঠিন জলবায়ু, বরফাচ্ছাদিত ভূপ্রকৃতি, অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ কারণে ট্রাম্পের তেল-গ্যাস উত্তোলনসংক্রান্ত দাবির বাস্তবতা নির্ধারণে ভূতাত্ত্বিক জরিপ, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা এবং পরিবেশগত প্রভাবের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

সার্বভৌমত্ব ও স্বশাসনের প্রশ্ন

গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত একটি স্বশাসিত অঞ্চল। দ্বীপটির ভবিষ্যৎ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের অধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বা সম্পদ অনুসন্ধানের যেকোনো উদ্যোগের ক্ষেত্রেই ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান এবং সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণার বিষয়ে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা প্রকাশের আগে যাচাই করা প্রয়োজন।

সূত্র: আল-জাজিরা (প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী)।